ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলেন ড. ইসরাফিল শাহীন

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর উত্তরের শহর ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলো বর্তমান সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল শাহীন। আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল শাহীনকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল শাহীনের নিয়োগের মেয়াদ হবে তার যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর। তবে বয়স অনুযায়ী অবসর গ্রহণের তারিখ এর আগে হলে সেই সময় পর্যন্তই তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।

তিনি উপাচার্য পদে যোগদানের আগের মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধাও ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। তবে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।ড. ইস্রাফীল শাহীন এর সংক্ষিপ্ত জীবনী-

ড. মো. ইসরাফিল শাহীন (মোহাম্মদ ইসরাফিল) (জ. ১৯৬৪) বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান থিয়েটার নির্দেশক, গবেষক ও শিক্ষক। ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (১৯৯১) থেকে স্নাতক শেষে তিনি ১৯৯৯ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের স্ট্রিট থিয়েটারের ওপর পিএইচডি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে সিনিয়র প্রফেসর হিসেবে তিনি ২০০৬–২০০৯ সালে বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মিশর, ফিলিপাইন, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও চেক প্রজাতন্ত্রসহ বহু দেশে তিনি কর্মশালা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। পদ্ধতিগত অভিনয়, স্থানীয় নাট্যরীতি, নৃবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও মিতব্যয়ী দৃশ্যরূপ তার নির্দেশনাকে একটি স্বতন্ত্র ধারা দিয়েছে।

তার কাজ থিয়েটারকে সমাজমুখী, অংশগ্রহণমূলক ও অবিরাম সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.