বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে গ্যাস্টি্রকের ওষুধ অন্যতম। সাম্প্রতিক গ্যাস্টি্রকের ওষুধের মধ্যে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস (পিপিআই) সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত। মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পিপিআইয়ের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দেশের সাধারণ মানুষ।
গ্যাস্টি্রকের ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বলতে বোঝায়—যখন এই ওষুধগুলো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময়, বেশি ডোজে বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।
প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস-পিপিআই হলো পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানোর ওষুধ।
সাধারণত ব্যবহৃত পিপিআইগুলো হলো:
Omeprazole (ওমিপ্রাজল)
Esomeprazole(ইসোমিপ্রাজল)
Pantoprazole (পেন্টোপ্রাজল)
Rabeprazole (রাবিপ্রাজল)
Lansoprazole ( ল্যান্সোপ্রাজল)
এসব ওষুধ সাধারণত গ্যাস্ট্রিক আলসার, অ্যাসিড রিফ্লাক্স (জার্ড), অতিরিক্ত অ্যাসিডজনিত সমস্যা ইত্যাদির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের সাধারণ উদাহরণ: ১। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহার করা ২। প্রয়োজন শেষ হলেও ওষুধ চালিয়ে যাওয়া
কম ডোজে কাজ হলেও বেশি ডোজ গ্রহণ করা ৩। সামান্য গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমে নিয়মিত পিপিআই খাওয়া
দীর্ঘদিন ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি:
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি ও অপ্রয়োজনীয় পিপিআই ব্যবহারে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমন
ভিটামিন B12-এর ঘাটতি
শরীরে ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া
হাড় দুর্বল হওয়া বা ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি
কিডনি সমস্যার সম্ভাবনা
শরীরের স্বাভাবিক অ্যাসিড ভারসাম্যে পরিবর্তনতবে চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলে পিপিআই সাধারণত নিরাপদ ও কার্যকর।
২। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করবেন না
৩। কতদিন ও কী মাত্রায় ওষুধ খেতে হবে, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন
৪। জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে, যেমন:
৫। ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়া
৬। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
৭। রাতে দেরি করে খাবার না খাওয়া
৮। ধূমপান ও অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা
৯। স্বাস্থ্যসচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা পরামর্শমতো ব্যবহার