রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই হ্যাট্রিক করে বাজিমাত করেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার কিংবদন্তী লিওনেল মেসি। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকার হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ^কাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
কানসাস সিটির ৬৯,০৪৫ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ্যারোহেড স্টেডিয়ামে মেসি দুর্দান্ত একক নৈপুণ্য প্রদর্শন করে আর্জেন্টিনাকে পরপর তিন গোল উপহার দিয়েছেন। এর মাধ্যমে জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার সাথে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে এটাই মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক।
৩৮ বছর বয়সী মেসির এটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০০তম ম্যাচ। একইসাথে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার কৃতিত্বও তিনি অর্জণ করেছেন। মেসি যাদুতে গ্রুপ-জে’র ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল একেবারেই একপেশে।
২০০৬ সালে জার্মানীতে টিনএজার মেসি প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিলেন মেসি। ধীরে ধীরে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।
১৭ মিনিটে কার্লিং শটে মেসি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৪তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার ও ফরাশি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশে নিয়ে যান। এরপর ৬০ মিনিটে এ্যালেক্সিস ম্যাক এ্যালিস্টারের ফিরতি শটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। এতে মুলার আর এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোনাল্ডোর সাথে ১৫ গোলে মালিক হন। ৭৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরনের পাশাপাশি ক্লোসাকে স্পর্শ করেন।
২০২২ কাতার বিশ^কাপের এপিক ফাইনালে ফ্রান্সকে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা মেসির নেতৃত্বে শিরোপা জয় করেছিল। ঐ ম্যাচে লেস ব্লুজ তারকা এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘পরিবার, সতীর্থ যারা আমার পাশে সবসময় থেকেছে তাদের সাথে এমন একটি ম্যাচ উপভোগ করার আনন্দই আলাদা। আমি সমর্থকদের কাছে কৃতজ্ঞ।
আরও একবার তারা প্রমান করেছে আর্জেন্টিনার ফুটবলের জন্য কতটা পাগল। পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকরাই ছিল।’
১৭ মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশে মেসি যখন আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তখন সমর্থকদের উচ্ছাস দেখে মনে হয়েছে এটা যেন বুয়েন্স আয়ার্সের ঘরের মাঠ।
হ্যাটট্রিকের পরপরই মেসিকে বদলী বেঞ্চে নিয়ে যান কোচ লিওনেল স্কালোনি।
খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’র ম্যাচটি শুরু থেকেই দারুণ দ্রতগতির ছিল। ম্যাচের শুরুতে দুই দলই একটি করে গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেগুলো বাতিল হয়ে যায়, যার মধ্যে মেসির একটি গোলও ছিল।
তবে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় রডিরিগো ডি পলের চমৎকার মাপা একটি থ্রু পাস থেকে। বল পেয়ে মেসি গোলমুখে এগিয়ে যান এবং পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শট নেন, যা গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পরাস্ত করে।
দক্ষিণ আমেরিকার দলটি ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিয়ন্ত্রণে ছিল। আক্রমণে তারা ছিল সাবলীল, আর তাদের ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসিই খেলায় মূল ছন্দ তৈরি করছিলেন।
তবে প্রথমার্ধেও শেষভাগে আলজেরিয়া কিছুটা ভালো সময় কাটায়। এ সময় ফারেস চাইবির একটি শট কোনমতে রক্ষা করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিজে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসির আরেকটি বাঁকানো শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। লটারো মার্টিনেজের একটি শট জিদান রুখে দেন।
তবে দর্শকদের আর বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি মেসির আরেকটি গোল উদ্যাপনের জন্য।
এ্যালেক্সিস ম্যাক এ্যালিস্টারের জোরালো শট সামলাতে ব্যর্থ হন জিদান, আর ফিরতি বলে মেসি ৬০তম মিনিটে সহজেই ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ৭৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় নিকো গঞ্জালেজের পাস থেকে গোল করে তিনি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।