পিছিয়ে পড়েও হাইতিকে হারিয়ে নক আউট পর্বে মরক্কো

 দুইবার পিছিয়ে পড়েও লড়াকু হাইতিকে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মরক্কো। যদিও অল্পের জন্য গোল ব্যবধানে ব্রাজিলের থেকে পিছিয়ে তাদের সি-গ্রুপের শীর্ষ স্থান পাওয়া হয়নি। 

ইয়াসিন বুনোর আত্মঘাতি গোল ও উইলসন ইসিডোরের দুর্দান্ত স্ট্রাইকে হাইতি দুইবার এগিয়ে থেকেও লিড ধরে রাখতে পারেনি। ৫২ বছরের ইতিহাসে এটাই হাইতির বিশ্বমঞ্চে প্রথম গোল। আশরাফ হাকিমি ও ইসমায়েল সাইবারির গোলে বিরতির আগেই সমতা ফেরায় মরক্কো। তিন ম্যাচে এটি সাইবারির তৃতীয় গোল। ৩০ বছর বয়সী সোফিয়ানে রাহিমির ডিফ্লেকটেড শটে প্রথমবারের মত মরক্কো ম্যাচে লিড নেয়। এরপর জেসিমে ইয়াসিনের গোলে মরক্কোর জয় নিশ্চিত হয়।

আগামী সোমবার মন্টিয়ারিতে শেষ ৩২’র ম্যাচে মরক্কোর প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস অথবা জাপান।

কোন পয়েন্ট না নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে খেলতে এসে হাইতির পারফরমেন্স সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আগের দুই ম্যাচে তারা স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের কাছে পরাজিত হয়েছিল হাইতি। বিদায়বেলায় আটালান্টার স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে হাজারো হাইতি সমর্থক দলের উচ্ছসিত পারফরমেন্সের পক্ষে চিৎকার করেছে।

ম্যাচ শুরুর ১০ মিনিটে বিশ্বমঞ্চে দীর্ঘ প্রতিক্ষীত গোল পায় হাইতি। জিন কেভিন ডুভার্নের ক্রস থেকে লেনি জোসেফের ফ্লিক বুনোর গায়ে লেগে জালে জড়ায়। পিএসজি তারকা হাকিমি ৩৯ মিনিটে সহজ গোলে মরক্কোকে সমতায় ফেরান। চার মিনিটের মধ্যে দুর্দান্ত এক গোলে আবারও এগিয়ে যায় হাইতি। বামদিক থেকে ইসিডোরের বাঁকানো শটে পরাস্ত হন মরোক্কান গোলরক্ষক বুনো।

দ্বিতীয় গোল হজম করে বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অধিনায়ক হাকিমি ও কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। কিন্তু ২০২২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্টরা বিরতির আগেই গোল শোধ করেন। হাকিমির লো ক্রসে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে টুর্ণামেন্টের তৃতীয় গোল করেন সাইবারি।

মিয়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল জয় পাওয়ায় গ্রুপ-সি’র শীর্ষে উঠতে হলে মরক্কোর সামনে জয় ভিন্ন অন্য পথ খোলা ছিলনা।

ম্যাচ শেষের ২০ মিনিট আগে ওয়াহবি মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন বায়ার্ন মিউনিখের চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থাকা সাইবারি ও রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাহিম দিয়াজকে। এই দুই পরিবর্তনে মরক্কোর ভাগ্যের চাকাও ঘুরে যায়। বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে এসে মরক্কোকে জয় উপহার দিয়েছেন রাহিমি ও ইয়াসিন। ৭৮ মিনিট কর্ণার থেকে রাহিমির শক্তিশালী স্ট্রাইক আটকানোর সাধ্য ছিলনা হাইতির গোলক্ষকের। এরপর রাহিমি ৮৯ মিনিটে ইয়াসিনকে দিয়ে জয়সূচক গোলটি করিয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.