গণঅভ্যুত্থান আকস্মিক ঘটনা নয়, ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল।

তিনি বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থান কোনো নিউটনের আপেল ছিল না। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে, এটা কখনো অটোমেটিক ছিঁড়ে পড়েনি।’

আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) যৌথ উদ্যোগে ‘জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভেতরে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে এটাও রাজনৈতিক অপরিপক্কতা।’ তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।

নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন বন্ধুরা নতুন বন্দোবস্ত ও নতুন রাজনীতির কথা বললেও অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো বন্দোবস্তের ধারায় রাজনীতি করছেন। রাজনীতির মাঠ অনেক কঠিন, বন্ধুর ও কণ্টকাকীর্ণ- এ পথ সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কেউ ছিনিয়ে নিয়ে সেটিকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন করতে চাইলে সেই রাজনীতি সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘদিনের সঙ্গীদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে বা আড়ালে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ ও রাজপথে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। তবে এমন কোনো রাজনৈতিক চর্চা করা যাবে না, যাতে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ হয়।

এ সময় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একাত্তরের চেতনা বিক্রির রাজনীতিও ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা ‘চেতনার রাজনীতি করতে করতে’ দিল্লিতে গিয়ে বসে আছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে একই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, ‘এটা কোনো প্রতিহিংসা নয়। কিন্তু অন্যায়কারীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অতীতে সাদা দলের সভাতেও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের নজরদারি ছিল। তখন শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতেন না এবং নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জাতীয় বিভিন্ন সংকটেও শিক্ষকরা রাজপথে নেমেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের ভূমিকা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button

Leave A Reply

Your email address will not be published.