নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ‘ডাক্তার মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী মানব উন্নয়ন মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেওটি ইউনিয়নে অবস্থিত ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ আয়োজন চলে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বী করে তুলতে দীর্ঘদিনের সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
ফাউন্ডেশনের সুবিধাভোগীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ডাক্তার মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়া, সিআইপি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যের এলএমআইএস (LMIS)-এর চেয়ারম্যান ডানকান থমসন।

ছবিঃ নিউজ ডেস্ক
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফাউন্ডেশনটি ‘পাঁচ শূন্য’ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে কাজ করছে। এ কর্মসূচির পাঁচটি মূল লক্ষ্য হলো—‘শূন্য নিরক্ষরতা, শূন্য চিকিৎসাবিহীন মৃত্যু, শূন্য ভিক্ষুক, শূন্য গৃহহীন ও শূন্য অদক্ষ যুবক’।
এই কাঠামোর আওতায় সুবিধাবঞ্চিতদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি, ভিক্ষাবৃত্তির বদলে মর্যাদাপূর্ণ আয়ের পথ সুগম করা, গৃহহীন পরিবারের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, “একটি মানবিক, দক্ষ ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থান মৌলিক শর্ত। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিপর্যায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যুক্ত হলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমানে টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

ছবিঃ নিউজ ডেস্ক
বিশেষ অতিথি ডানকান থমসন ফাউন্ডেশনের সার্বিক কর্মযজ্ঞের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন যেভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণে কাজ করছে, তা বিশ্বজুড়ে অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। সুযোগ পেলে আমি আবারও এ দেশে এসে এদের কার্যক্রম পরিদর্শনে অংশ নিতে চাই।”
আয়োজকরা জানান, ‘পাঁচ শূন্য’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে আগামী দিনে তাঁদের এ মানব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিধি সারা দেশে আরও বিস্তৃত করা হবে।