আজ সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) মরহুম এম সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা প্রাণ সঞ্চার করেছিল। এটা সাইফুর রহমানের অবদান।’
সাইফুর রহমানের ব্যবস্থাপনা দক্ষতার প্রশংসা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলেও থাকা অবস্থায় বিএনপির রাজনৈতিক বিরোধীরা তার ব্যক্তি হিসেবে উচ্চতা, ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাসিটি এবং অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে সেভাবে সমালোচনা করতে পারেনি। কারণ দেশের জনগণের মধ্যে তার দক্ষতা ও যোগ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পরবর্তী ১৭ বছর ছিল লুটপাটের অর্থনীতি, লুটপাটের বাজেট। গোটা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ফাঁকা এবং খোকলা করে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট এবং টাকা পাচার যেন আমাদের অর্থনীতির একটা সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, সাইফুর রহমানের লক্ষ্য ছিল ব্যক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং নিজের পায়ে দাঁড় করানো। কীভাবে একজন ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করা যায়, কীভাবে তাঁকে অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড় করানো যায়—সাইফুর রহমান তা জানতেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, সাইফুর রহমান যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন শেয়ারবাজার লুট হয়নি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাঁর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সময় শেয়ারবাজারে অনিয়ম ঠেকাতে তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে একটি পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সাইফুর রহমান তার মেধা, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা কাজে লাগিয়েছিলেন। এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আবারও দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে নিয়ে যাবে এবং দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে বিমোচন হয়ে দেশ একটি সমৃদ্ধশালী জাতিতে পরিণত হবে—এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি. কে গউছ। ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম নাসের রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।