আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শুরুতে সীমিত ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে টার্মিনালটির কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে নেওয়া হবে।  

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “যেভাবেই হোক, আমরা ১৬ ডিসেম্বর এটা ওপেন করতে চাই।”

তিনি জানান, টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও অপারেশনাল সিস্টেমের প্রতিদিনই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ। বাকি ইন্টিগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে থার্ড টার্মিনালের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সক্ষমতা আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পাবে। নতুন টার্মিনালটি সর্বোচ্চ ২৫০টি উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করবে বলে জানান মন্ত্রী।

জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এখনো প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ বাকি রয়েছে।

সরকারের আশা, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আগামী বছর থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। বিমানবন্দরে নেমেই বিনিয়োগকারীরা যেন বাংলাদেশের আধুনিক অবকাঠামো ও সক্ষমতার ইতিবাচক ধারণা পান, সে লক্ষ্যেই টার্মিনালটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে শুধু নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা এবং এর সেবার মান নিশ্চিত করা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর আংশিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে টার্মিনালের পূর্ণ দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.