রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাতে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুমোদিত স্থান ছাড়া হকার বসলে উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের মালামাল ক্রোক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া ঢাকার কোথাও কোনো হকার বসতে পারবে না। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখল করলে এখন থেকে উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে মালামাল জব্দ ও সরাসরি মামলা দায়ের করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধলপুরে সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জনভোগান্তি সংক্রান্ত বিষয়াদি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফুটপাত ও স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাটের মূলসড়কসহ কোনো ফুটপাতে অবৈধভাবে হকার বসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শহরের সকল হকারকে শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে এবং সিটি কর্পোরেশনে নিবন্ধিত হতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া ঢাকা শহরের কোথাও কোনো হকার বসতে পারবে না।
হকারদের নোটিশ প্রদান ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, দফায় দফায় হকার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুতরাং নতুন করে নোটিশ দেওয়ার কোনো বিষয় নেই।
পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকার যেসব নাগরিক সিটি কর্পোরেশনকে কর প্রদান করেন, তারা কী চান-সেই বিষয়টি সামনে রেখে এ বিষয়ে প্রশ্ন করার অনুরোধ জানাচ্ছি । পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়-৫-এর প্রবেশপথে ঢাকা ওয়াসার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রশাসক।
তিনি বলেন, ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাজের কারণে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ওয়াসাসহ অন্যান্য সেবামূলক সংস্থাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমন্বিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের এ ধরনের জটিলতার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে প্রতি ১৫ দিন পর পর নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে।
তিনি বলেন, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, টিঅ্যান্ডটি ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘদিনের এসব জটিলতার স্থায়ী সমাধান করা যায়।