পদ্মায় বাসডুবি: ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসডুবির ঘটনায় আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়াল। এর মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

নিহত ২৬ জনের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় নিহত সবার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন: ১. রেহেনা আক্তার (৬১), স্বামী- মৃত ইসমাঈল হোসেন খান, রাজবাড়ী পৌরসভা। ২. মর্জিনা খাতুন (৫৬), স্বামী- মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, কুষ্টিয়া পৌরসভা। ৩. রাজীব বিশ্বাস (২৮), পিতা- হিমাংশু বিশ্বাস, খাগড়বাড়ীয়া, কুষ্টিয়া সদর। ৪. জহুরা অন্তি (২৭), পিতা- মৃত ডা. আবদুল আলীম, রাজবাড়ী পৌরসভা। ৫. কাজী সাইফ (৩০), পিতা- কাজী মুকুল, রাজবাড়ী পৌরসভা।

৬. মর্জিনা আক্তার (৩২), স্বামী- রেজাউল করিম, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ। ৭. ইস্রাফিল (৩), পিতা- দেলোয়ার হোসেন, খোকসা, কুষ্টিয়া। ৮. সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), পিতা- রেজাউল করিম, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ। ৯. ফাইজ শাহানূর (১১), পিতা- বিল্লাল হোসেন, কালুখালী, রাজবাড়ী। ১০. তাজবিদ (৭), পিতা- কেবিএম মুসাব্বির, রাজবাড়ী পৌরসভা।

১১. আরমান খান (৩১), পিতা- আরব খান, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী (বাসচালক)। ১২. নাজমিরা বা জেসমিন (৩০), স্বামী- আব্দুল আজিজ, কালুখালী, রাজবাড়ী। ১৩. লিমা আক্তার (২৬), পিতা- সোবাহান মণ্ডল, রাজবাড়ী সদর। ১৪. জোস্ন্যা (৩৫), স্বামী- মান্নান মণ্ডল, রাজবাড়ী সদর। ১৫. মুক্তা খানম (৩৮), স্বামী- মৃত জাহাঙ্গীর আলম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।

১৬. নাছিমা (৪০), স্বামী- মৃত নূর ইসলাম, পার্বতীপুর, দিনাজপুর। ১৭. আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), স্বামী- মো. নুরুজ্জামান, আশুলিয়া, ঢাকা। ১৮. সোহা আক্তার (১১), পিতা- সোহেল মোল্লা, রাজবাড়ী পৌরসভা। ১৯. আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), পিতা- গিয়াসউদ্দিন রিপন, সমসপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া। ২০. আরমান (৭ মাস), পিতা- নুরুজ্জামান, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।

২১. আব্দুর রহমান (৬), পিতা- আব্দুল আজিজ, কালুখালী, রাজবাড়ী। ২২. সাবিত হাসান (৮), পিতা- শরিফুল ইসলাম, রাজবাড়ী সদর। ২৩. আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), পিতা- ইসমাইল হোসেন খান, রাজবাড়ী সদর। ২৪. উজ্জ্বল, পিতা- মজনু শেখ, কালুখালী, রাজবাড়ী। ২৫. আসরাপুল, পিতা- আফসার, কালুখালী, রাজবাড়ী। ২৬. জাহাঙ্গীর, পিতা- সানি উল্লা, কালুখালী, রাজবাড়ী।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেন দিয়ে বাসটি ওপরে তোলা হয়।  ঢাকা অভিমুখে যাওয়া ওই বাসটিতে ৪০ থেকে ৫৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.