আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্পটির কাজ চলমান রয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই কোচগুলো পর্যায়ক্রমে রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নতুন কোচগুলো পাওয়া গেলে সারা দেশে নতুন ট্রেন পরিচালনা এবং রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গতি আসবে।
সংসদ অধিবেশনে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী আরও জানান , ঢাকা-কমলাপুর থেকে ফরিদপুর, রাজবাড়ী হয়ে মধুখালী ও গোপালগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেলগাড়ি চালুর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তবে এই নতুন রুটগুলোতে ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি মূলত নতুন কোচ ও ইঞ্জিন সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে।
এই সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯টি মেইল বা কমিউটার ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। এমনকি পর্যাপ্ত ক্রু ও ইঞ্জিনের অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেন পুশব্যাক বা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে এই সংকটের বড় একটি অংশ সমাধান হবে বলে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, আমদানিতব্য ২০০টি ব্রডগেজ কোচ মূলত ভারত থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
রেলওয়ের এই বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সরকার বর্তমানে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করছে যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিমুক্ত রেলসেবা পেতে পারে।