নরওয়ের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাতিলের ঘটনায় মালয়েশিয়ার ক্ষোভ

মালয়েশিয়া রোববার নরওয়ের সঙ্গে নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাতিল  হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে, এ ব্যাপারে প্রভাবশালী দেশগুলো নীরবতাকে তীব্র সমালোচনা করেছে। 

দেশটির মতে, এ বিষয়ে প্রভাবশালী দেশগুলোর এমন নীরবতা আন্তর্জাতিক চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে একটি ‘বিপজ্জনক বার্তা’ দিচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

চলতি মাসে নরওয়ে কিছু প্রযুক্তি রপ্তানির অনুমোদন বাতিল করার পর, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে।

অসলো জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ মালয়েশিয়াকে উদ্দেশ্য করে নেওয়া হয়নি। তবে কুয়ালালামপুর চুক্তির সঙ্গে জড়িত নরওয়ের কোম্পানির কাছ থেকে ২৫১ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ফোরামে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নর্দিন বলেন, ‘নরওয়ের একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। এই চরম নীরবতা এমন বার্তা দেয় যে কিছু দেশ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে।’

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ ও শক্তিশালী দেশ বা তাদের মিত্রদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ড রয়েছে বলে মনে করে মালয়েশিয়া।

নরওয়ে জানায়, রপ্তানি অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে কেবল দেশটির নিজস্ব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা অনুযায়ী এবং গোপনীয় চুক্তির কারণে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘কঠোর আপত্তি’ জানান এবং এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

আনোয়ার সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি ও লিটোরাল কমব্যাট শিপ (এলসিএস) আধুনিকায়ন কর্মসূচির ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

লিটোরাল কমব্যাট শিপ (এলসিএস) কর্মসূচি প্রথম ২০১১ সালে মালয়েশিয়ায় অনুমোদন পায়। সে সময় প্রায় ৬ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ছয়টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।

ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগে জর্জরিত এই প্রকল্পটি সরকারি পর্যালোচনার পর ২০২৩ সালে পুনরায় চালু করা হয়। তবে তখন যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ছয়টি থেকে কমিয়ে পাঁচটি করা হয়।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব এবং চলমান পুনর্গঠন কাজের কারণে প্রথম যুদ্ধজাহাজটি আগস্টে হস্তান্তরের কথা থাকলেও, তা পিছিয়ে ডিসেম্বর মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.