যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়ায় ইরানের জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, শনিবার প্রচারিত এক প্রতিবেদনে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক’ খসড়ার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একই ধরনের একটি প্রতিবেদনের দাবি হোয়াইট হাউস ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তবে তার বর্ণিত চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইরানি সূত্রগুলো অস্বীকার করেছে।
শনিবার ( ৩০ মে) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে তার ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে এসব অর্থ ইরানের পছন্দের ব্যাংকে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই স্থানান্তর ও ব্যয় করা যাবে।’
অন্যদিকে ট্রাম্প শুক্রবার জোর দিয়ে বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থের লেনদেন হবে না।’
তবে অবগত সূত্রের বরাতে ইরানি গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্রুতই এ দাবি খ-ন করা হয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহে একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাতার সফরকারী একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন। সেখানে জব্দ থাকা অর্থের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমঝোতা স্মারকে বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শনিবারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরান হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, ইরান প্রণালীটি ‘অবাধ নৌ-চলাচলের জন্য’ খুলে দেবে।
জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থেকে যাওয়া গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার জানিয়ে এসেছে।