ইরানজুড়ে বিক্ষোভ, নিহত বেড়ে ২ হাজার ৫৭১

ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ১২ শিশুসহ নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১–এ দাঁড়িয়েছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ নিহতের এ সংখ্যা জানায়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয় তাদের হাতে থাকা তথ্যানুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারসংশ্লিষ্ট বাহিনীর (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী) সদস্য। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২টি শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া এমন ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন; যাঁরা বিক্ষোভে অংশ নেননি।

সংগঠনটি আরও জানায়, এই বিক্ষোভের মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। ইরানের দাবি, তাদের শত্রুরা বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে আন্তর্জাতিক ফোন সংযোগ আবার চালু হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে এখনো বাইরে থেকে ইরানে ফোন করা যাচ্ছে না। শুধু ইরান থেকে বাইরে ফোন করা যাচ্ছে; যদিও সংযোগের মান খুব দুর্বল, বারবার লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ইরানে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে ইরানের বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মানুষের নিহত হয়েছে। গতকাল ওই কর্মকর্তা বলেছেন, নিহতের এ সংখ্যায় বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

নিহতের এ সংখ্যা গত কয়েক দশকে ইরানে হওয়া যেকোনো বিক্ষোভ বা অস্থিরতার সময়কার মৃত্যুসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এবারের বিক্ষোভ দেশটিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।

যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা কয়েক রাত ধরে চলা বিক্ষোভ তারা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। বহু মানুষ তাঁদের জানাজায় অংশ নিচ্ছেন এবং সেখান থেকে সরকারের পক্ষে বড় সমাবেশ হচ্ছে।বিক্ষোভে ‘নিহত ব্যক্তিদের’ জন্য আজ রাজধানীতে গণজানাজা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘সাহায্য আসছে।’ গতকাল নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

এমন সময়ে ট্রাম্প এ আহ্বান জানালেন, যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে যাওয়ার খবর আসছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.