মৃত্যুর প্রায় ২৫ বছর পর প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ আহমদ ছফার দেহাবশেষ মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেহাবশেষ স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কবি ও প্রাবন্ধিক সাখাওয়াত টিপু।
আহমদ ছফা ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মারা যান। সাখাওয়াত টিপু বলেন, ‘মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের একটি অংশ আছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে দাফন করা হয়। আরেকটি অংশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন করা হয়।’
২০০১ সালে ‘রাজনৈতিক কারণে’ ছফাকে সাধারণদের সঙ্গে দাফন করা হয়েছিল। সেখান থেকে তার দেহাবশেষ তুলে আজ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের মূল অংশে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান টিপু।
গত শনিবার এই ‘রাজনৈতিক কারণ’ সম্পর্কে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘আহমদ ছফা যখন মারা যান, তখন দেশে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল। কিন্তু সে সময় সদ্য সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যক্তিরাই কবরস্থানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তারা আহমদ ছফাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করতে দেননি।’
বাংলা একাডেমিতে ‘আহমদ ছফা স্মৃতিবক্তৃতা ২০২৬’ শীর্ষক সেই অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘ছফার মৃত্যুর পর তাকে কবর দিতে গিয়ে তিনি লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘যে আহমদ ছফা ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন বলা যায়, সেই আহমদ ছফাকে কবর দিতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে।’
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই আহমদ ছফার দেহাবশেষ অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা শুরু হয় বলে জানিয়েছেন সাখাওয়াত টিপু। এ কাজে সলিমুল্লাহ খান এবং ছফা পরিবারের কয়েকজন সদস্য সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।