৭ দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বিক্ষোভ করছেন সিরিঞ্জ কারখানার শ্রমিকরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার  নোয়াপাড়া-রাজেন্দ্রপুর এলাকায় দেশের একমাত্র সিরিঞ্জ তৈরি প্রতিষ্ঠান জেএমআই-এর কারখানার সামনের মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারখানাটির সামনে জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন অবরোধ করে রাখেন। সবশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শ্রমিক নেতা ও মালিক পক্ষের সঙ্গে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা ওসি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক চলছিল।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর জেএমআই সিরিঞ্জ কারখানার শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে ১৩ দফা দাবি তোলেছিলেন। তখন কারখানাটির প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তারা দাবিগুলো ছয় মাসের মধ্যে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। পরে কম অগ্রাধিকার কিছু দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নেয়। তবে গত দুই বছরেও মূল দাবিগুলো মেনে না নেওয়ায় এবার সাত দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শ্রমিকরা গত সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বিক্ষোভ শুরু করেন।
দাবিগুলো হলো ১২ হাজার ৩৫০ টাকা সরকারি স্কেলে প্রথম বেতন ও চলমান মাসের বেতনের সঙ্গে বাড়তি বেতন যোগ; ছয় মাসের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণ ও এক বছরের মধ্যে আইডি কার্ড প্রদান;  প্রতিবছর সিনিয়রদের বেতন ১০ শতাংশ এবং জুনিয়রদের ১৫ শতাংশ করে বাড়ানো, শ্রমিক হয়রানি ও যখন-তখন চাকরিচ্যুত না করা; কোনো শ্রমিক অন্যায় করলে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ; অ্যাডমিন আলাউদ্দিন ও রেদওয়ানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি, তাদের সঙ্গে উৎপাদন বিভাগের শংকর ও জসিমকেও অব্যাহতি বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের হয়রানি বা চাকরি থেকে বহিষ্কার না করা এবং নামাজের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও ১৫ মিনিট সময় দেওয়া।জেএমআই সিরিঞ্জ কারখানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মিলন হাজারী বলেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং পরর্বতীতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.