সম্পর্কে অসমতা দূর করার দিন আজ

প্রেমিকার কেন ছেলেবন্ধু থাকবে? স্ত্রী কেন সন্ধ্যার পর বাইরে থাকবে? ঘরের বউ চাকরি করবে কেন? ভালোবাসাবাসির সম্পর্কে এখনো এই প্রশ্নগুলো শিকলের মতো নারীর পায়ে জড়িয়ে থাকে। উল্টো ব্যাপারও আছে। প্রেমিক মানেই রেস্তোরাঁয় খাবার বিলটা দেবে। স্বামী মানেই সংসার চালানোর সার্বিক দায়িত্বটা নেবে। নারী-পুরুষের সম্পর্ক নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রণে এমন অজস্র অসমতার উদাহরণ দেওয়া যায়। কিন্তু এমনই হতে হবে কেন! সমাজ নির্ধারণ করে দিয়েছে, তাই? একটি প্রেমময় সম্পর্কে পুরুষের ভূমিকা কী হবে, নারী কোন ভূমিকা পালন করবে—এসব কি আইনকানুন দিয়ে ঠিক করে দেওয়া যায়? কিন্তু যুগের পর যুগ তা–ই তো হয়ে আসছে।

প্রেমে বা দাম্পত্যে একটি ব্যাপার প্রায়ই দেখা যায়। কোথাও প্রকটভাবে, কোথাও সূক্ষ্মভাবে। সেটি হচ্ছে নিয়ন্ত্রণবাদী মানসিকতা। একে আধিপত্যবাদও বলা যায়। তুমি আমার প্রেমিক বা প্রেমিকা, তুমি এটা করতে পারবে না, ওখানে যেতে পারবে না। অথচ ওই একই কাজ আবার নিজে করলে দোষ নেই। তোমার কোনো ছেলেবন্ধু থাকবে না। তবে আমার মেয়েবন্ধু থাকতেই পারে। তুমি শিক্ষিত, সচেতন, কিন্তু চাকরি করতে পারবে না। কারণ, তুমি ঘরের বউ। অথচ ভালোবাসাবাসির ক্ষেত্রে একটা সমতার সম্পর্ক তৈরি করা গেলে ব্যাপারটা কী দারুণ হয়, ভেবে দেখুন তো!

প্রেমের সম্পর্কে লৈঙ্গিক বিভাজন বা অসম নিয়ন্ত্রণ প্রেমকে কেবল জটিলই করে, প্রেমময় করে না। ভারসাম্যপূর্ণ সুন্দর সম্পর্কের জন্য সমতার ভাবনা জরুরি। প্রেমিকা হয়তো ভালো গান গাইতে পারে, নাচতে পারে, লিখতে পারে—প্রেমের দোহাই দিয়ে তার এসব সুকুমার শিল্পসত্তাকে বাধাগ্রস্ত করা কোনো কাজের কথা নয়। প্রেমিক বা স্বামী হয়তো আলাভোলা কবি কিংবা স্বাপ্নিক রাজনীতিবিদ—ভালোবাসার মোহন বিষ খাইয়ে তার স্বপ্নগুলোকে মেরে ফেলাও ঠিক নয়। বরং ভাবনাটা হোক সমতার। উড়ন্ত পাখির ডানা কেটে দেওয়া নয়, আপনার প্রেম যেন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ওড়ার সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

আজ ২৪ জুন, সম্পর্কে সমতা দিবস। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সম্পর্কবিশারদ ও পরামর্শক ড. ওলুওয়াফেমি অগুনজিনমির হাত ধরে ২০১৯ সালে দিনটির প্রচলন হয়। সম্পর্ক নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্যের চর্চা এবং এর সৌন্দর্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে তিনি এই দিবস চালু করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.