ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি এবং চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দায় চাপানোর একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
রিজভী বলেন, হামলার ঘটনার মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ইঙ্গিত করে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়।
রিজভী বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা বসবাস করেন।
শান্তিনগর, শাজাহানপুর, খিলগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় বহু বড়ো রাজনৈতিক নেতা থাকেন, কিন্তু তারা কেউ কখনো এ ধরনের হামলার শিকার হননি। তাহলে কেন হঠাৎ করে শরিফ ওসমান হাদিকে টার্গেট করা হলো?
রিজভী আরও বলেন, একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ছাত্রনেতা কোনো তদন্ত ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের একজন সিনিয়র নেতাকে গ্যাংস্টার বলে আখ্যা দেয়। আমরা ৩৬ বছর আগেও ছাত্রনেতা ছিলাম, বড়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ছিলাম, কিন্তু কখনো অন্য দলের কোনো সিনিয়র নেতাকে এভাবে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করিনি।
রিজভী বলেন, পুলিশ কমিশনার নিজেই গণমাধ্যমে জানিয়েছেন যে হামলার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এটি বিএনপি’র কোনো বক্তব্য নয়। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য।
জনগণ বুঝে গেছে, প্রশাসনও বুঝে গেছে কারা এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের নায়ক বলেন রিজভী। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। কিন্তু কেউ-কেউ ৫ আগস্টের পর দেশে বিশৃঙ্খলার সংস্কৃতি তৈরি করতে চেয়েছে। উচ্ছৃঙ্খল জনতাতন্ত্র দিয়ে কখনো সুশাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
রিজভী আরও বলেন, হাদির ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তারা যেই হোক জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম।