বাংলাদেশে কুরআন শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন মাইলফলক প্রকাশিত হলো “বিস্ময়কর কুরআন”-এর দ্বিতীয় খণ্ড

বাংলাদেশে কুরআন শিক্ষা ও গবেষণার ইতিহাসে যুক্ত হলো এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। দীর্ঘদিনের গবেষণা, সাধনা ও নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে কুরআন এইজ একাডেমির পরিচালক এবং কুরআন এইজ পাবলিকেশনের কর্ণধার মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রকাশ করলেন “বিস্ময়কর কুরআন” গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড। এ খণ্ডে পবিত্র কুরআনের ১৬ থেকে ৩০তম পারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে রাজধানীতে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইসলামি শিক্ষা, গণমাধ্যম ও সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর মোখতার আহমদ, ডিরেক্টর, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টার। তিনি বলেন, “বিস্ময়কর কুরআন কেবল একটি গ্রন্থ নয়; এটি কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে এক আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতির উদাহরণ।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইসলামিক প্রোগ্রাম), এটিএন বাংলা। তিনি কুরআন শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে উপস্থাপনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মফিদুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ। পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্বগণ—কারী জহিরুল ইসলাম, শায়খ মাহমুদুল হক (খতিব, উত্তরা), শায়খ নাজির আহমেদ (খতিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল মসজিদ) এবং জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ মাসুম বিল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাবিবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল, চেয়ারম্যান, তানজিমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে কুরআন এইজ একাডেমির ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শাখার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি থেকে শিক্ষার্থীরা জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন।
“বিস্ময়কর কুরআন”-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শব্দে শব্দে বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদসহ কালার কোডেড গ্রামার উপস্থাপন। আরবি শব্দের ভেতরে থাকা বিভিন্ন অক্ষর ও ইংরেজি প্রোনাউনগুলো আলাদা রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা কুরআনের ভাষাগত গঠন বুঝতে পাঠককে বাড়তি সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে যে কোনো বয়সের সাধারণ শিক্ষিত মানুষও সহজেই কুরআনের অর্থ ও ব্যাকরণগত সৌন্দর্য অনুধাবন করতে পারবে। গ্রন্থটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় রয়েছে কালার কোডেড লেজেন্ড এবং প্রয়োজনীয় গ্রামাটিক্যাল টার্মস, যা পাঠককে ধাপে ধাপে কুরআন বোঝার সুযোগ করে দেয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “আমার লক্ষ্য মানুষ যেন কেবল তেলাওয়াতেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং কুরআনের অর্থ বুঝে তা জীবনে বাস্তবায়ন করে।” তিনি আরও জানান, কুরআন শিক্ষাকে আরও সহজ করতে কুরআন এইজ একাডেমি অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করছে।
আলেম সমাজ ও শিক্ষাবিদদের অভিমত, “বিস্ময়কর কুরআন” শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণার এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগকে সর্বমহলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.