ফ্ল্যাট-জমির নিবন্ধন খরচ ৫০ শতাংশ কমানোর সুপারিশ

জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি ফ্ল্যাট ও জমি কেনার নিবন্ধন খরচ ৫০ শতাংশ কমানোর সুপারিশ করেছে। ফ্ল্যাট বা জমি নিবন্ধনের সময় বর্তমানে কর ও নিবন্ধন ফি মিলিয়ে ঢাকাসহ বড় শহরে মোট সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত খরচ হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট বা জমি নিবন্ধনে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়।

কমিটি সভাপতিত্ব করছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার। গত মঙ্গলবার তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, যেখানে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি আরও প্রস্তাব করেছে, যেকোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উপহার দিলে বাজারমূল্যের ১ শতাংশ হারে কর কাটা হবে। বর্তমানে পরিবারে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান বা ভাই-বোনদের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর হলে কোনো কর আরোপ করা হয় না।

এছাড়া ব্যাংকে থাকা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক বাতিল, ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ৩ হাজার টাকা শুল্ক বসানো এবং ফেসবুক পেজ বা অনলাইনে ব্যবসা করা ব্যক্তিদের করের আওতায় আনার সুপারিশও করা হয়েছে।
কমিটি সারচার্জ এবং ন্যূনতম করের বিধানও পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে বর্তমান আয়ের ওপর ভিত্তি করে যে সারচার্জ বসে, তা বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া রিটার্ন জমার সময় ন্যূনতম কর পাঁচ হাজার টাকার বিধানও বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।একই সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় একক হারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে ভ্যাটের হার ভিন্ন থাকায় কর ব্যবস্থা জটিল হয়ে গেছে। কমিটি মনে করছে, একক ভ্যাটহারে এটি সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কমিটির সুপারিশগুলো ভালো এবং জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে এগুলো বিবেচনা করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.