কঙ্গোতে খনি ধসে ২০০ জনেরও বেশি নিহত

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে রুবায়ায় একটি মূল্যবান ধাতু কোল্টানের খনি ধসে ২০০ জনেরও বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর কিভু প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ওই খনিটি গত বুধবার ধসে পড়ে এবং শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরার।

রুবায়ার খনি থেকে বিশ্বের কোল্টানের প্রায় ১৫ শতাংশ উৎপাদন হয়, যা ট্যানটালামে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, এটি একটি তাপ-প্রতিরোধী ধাতু যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশ যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইন নির্মাতাদের কাছে উচ্চ চাহিদা রয়েছে।

মুইসা নামে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, এই ভূমিধসের শিকার হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি মানুষ- যার মধ্যে খনি শ্রমিক, শিশু এবং নারীও রয়েছেন।
কিছু লোককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি আরও বলেন, অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।দেশটিতে এখন বর্ষাকাল চলছে, তাই মাটি ভঙ্গুর। ক্ষতিগ্রস্তরা যখন গর্তে ছিল তখন মাটি এসে তাদের বাইরে আসার পথ বন্ধ করে দেয়।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী কর্তৃক নিযুক্ত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্টন বাহাতি মুসাঙ্গা শুক্রবার সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আহতদের সঙ্গে বেশ কিছু মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাদেশিক গভর্নরের একজন উপদেষ্টা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৃতের সংখ্যা ২০০ জনেরও বেশি বলে জানিয়েছেন, কারণ তিনি মিডিয়াকে ব্রিফ করার জন্য অনুমোদিত ছিলেন না।

ফ্রাঙ্ক বলিঙ্গো নামে এক খনি শ্রমিক বলেছেন, বহু লোক এখনও খনির ভিতরে আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল, তারপর ভূমিধস ঘটে।কঙ্গের এ অঞ্চলটি ২০২৪ সাল থেকে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভারী অস্ত্রধারী এম২৩ বিদ্রোহীদের লক্ষ্য রাজধানী কিনশাসায় কঙ্গো সরকারকে উৎখাত করা।

জাতিসংঘে এই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রুবায়ার সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে। কঙ্গোতে বিরল ও মূল্যবান খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, ৭০ শতাংশেরও বেশি কঙ্গোর নাগরিক প্রতিদিন ২.১৫ ডলারেরও কম আয় করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.