হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনীর ধাওয়া

বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারকে ‘ধাওয়া’ করে ইরানের নৌবাহিনী। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাহারায় ট্যাংকারটি ‘আটকের’ হাত থেকে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে চেলে যেতে সক্ষম হয়।

মঙ্গলবার ( ৩ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের সময় ইরানি নৌবাহিনীর তিনটি সশস্ত্র স্পিডবোট ‘স্টেনা ইম্পেরেটিভ’ নামে মার্কিন ওই ট্যাংকারটির গতিরোধ করার চেষ্টা করে।

সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ‘ভ্যানগার্ড টেক’ তাদের গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় জানায়, ৫০ ক্যালিবার মেশিনগান সজ্জিত ইরানের অন্তত ছয়টি স্পিডবোট মার্কিন জাহাজটিকে ঘিরে ফেলে। এ সময় ইরানি সেনারা ট্যাংকারটির নাবিকদের ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেন ও জাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নেন। তবে ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত গতি বাড়িয়ে দেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ও ট্যাংকারটিকে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যায়।

এদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স এজেন্সি (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তরে একটি জাহাজ ‘আক্রান্ত’ হওয়ার খবর পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন পতাকাবাহী ওই ট্যাংকারটিই সেখানে বাধার মুখে পড়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরীয় এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নজরদারি ও আটকের ঘটনা কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত কৌশলগত একটি সমুদ্রপথ। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য পদক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বহু বছর ধরে এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.