২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও খাতে কর, শুল্ক এবং ভ্যাট বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে কিছু ভোগ্যপণ্য, আমদানিনির্ভর পণ্য ও বিলাসী সামগ্রীর দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশ করবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে যাচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যেখানে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি থাকতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে বেঁধে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্য
প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের সব স্তরের মূল্যসীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ, সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হতে পারে। এর ফলে সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য মূল্যসীমা:
- নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্যাকেট: ৬২ টাকা
- মধ্যম স্তর: ৯২ টাকা
- উচ্চ স্তর: ১৬০ টাকা
- অতি-উচ্চ স্তর: ২১০ টাকা
অ্যালকোহল
দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে এ ধরনের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
কাজুবাদাম
কাজুবাদাম আমদানির শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে আমদানিকৃত কাজুবাদামের বাজারদর বাড়তে পারে।
হিমায়িত মাছ
উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। এতে এসব মাছের খুচরা মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রড ও নির্মাণসামগ্রী
মাইল্ড স্টিল (এমএস) রডসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। এর প্রভাব নির্মাণ খাতেও পড়তে পারে।
বিলাসী ও আমদানি পণ্য
বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসী পণ্য, আমদানি করা উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য এবং নতুন ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।