ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে পালিত হয়েছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

 ইতিহাসে ৭ই নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।

৭ই নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। আজ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সকাল ১০টায় দূতাবাস মিলনায়তনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন প্রথম সচিব মো. আবেদুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দ্বিতীয় সচিব মো. আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যান্সারি (এইচওসি) প্রভাষ লামারং।

আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন ও দূরদর্শী দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্ব একটি সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশকে সঠিক পথ দেখিয়েছিল। ৭ই নভেম্বর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে শৃঙ্খলায় ফিরে আসে। তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ই নভেম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।’

অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘বিগত সময়ে ছড়িয়ে দেওয়া অসত্য ন্যারেটিভের বিপরীতে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না, বহু বছর ধরে সেসব দায় তাঁর ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে।’

ঐতিহাসিক তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ক্যু সম্পন্ন করে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করেন। সেই রাতেই জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এছাড়া ৪, ৫ ও ৬ই নভেম্বর সেনা কর্মকর্তাদের যখন হত্যা করা হয়, তখন জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণ বন্দি অবস্থায় ছিলেন। এসব হত্যাকাণ্ডের দায় খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহেরের ওপর বর্তালেও অন্যায়ভাবে জিয়াউর রহমানকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের বিদেশে পাঠানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন খালেদ মোশাররফ। এছাড়া কর্নেল তাহের জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিলেন- এই দাবিটি ইতিহাসের অন্যতম বড় মিথ্যাচার। প্রকৃত সত্য হলো সাধারণ সিপাহীরাই তাঁকে মুক্ত করেছিলেন। কর্নেল তাহের তাঁকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দূরদর্শী জিয়াউর রহমান ব্যবহৃত হননি।

আলোচনা সভা শেষে ৭ নভেম্বরের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে

Leave A Reply

Your email address will not be published.