অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তুলেছে ৭ নভেম্বরের চেতনা : রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এ দেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এটি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের জেগে ওঠা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক।

আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা দেশের স্বাধীনতাকে অন্য একটি দেশের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তখন যারা প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে প্রতিবাদ করেছিলেন তাদেরকে রক্ষীবাহিনী গঠন করে হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সব রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ ও সৈনিকরা রাস্তায় নেমে আসে। ৭ নভেম্বর ছিল সৈনিক-জনতার এক অভূতপূর্ব বিপ্লব, যা বাকশাল পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের সমর্থনে নেতৃত্ব গ্রহণ করে দেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করেন। তার সময়ে অসংখ্য টেলিভিশন ও সংবাদপত্র চালু হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পায়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আসে। কলকারখানার উৎপাদন আবার সচল হয়। এ সময়ে গ্রাম পুলিশ ও মহিলা পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষ একইভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে দেশে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে। এ সময়ে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র, শ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের রক্তের বিনিময়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের জনগণ ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়ে এখনও নির্ভীক ও অতন্দ্রভাবে জেগে আছে। এই দেশকে কারও সেবাদাস হতে দেওয়া যাবে না।

বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি সহজ-সরল পথের রাজনীতি, সিরাতুল মুস্তাকিমের রাজনীতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের অঙ্গীকার কখনো ভঙ্গ করেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেননি। তবে কিছু রাজনৈতিক দল ইসলামের নামে রাজনীতি করলেও কথায় কথায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় রুহুল কবির রিজভী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button

Leave A Reply

Your email address will not be published.