নোয়াখালীকে টানা ষষ্ঠ হারের লজ্জা দিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নোয়াখালী এক্সপ্রেসের দুঃসময় যেন কাটছেই না। দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৪ উইকেটের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টানা ষষ্ঠ হারের মুখ দেখল দলটি। এর ফলে বিপিএল ইতিহাসে টুর্নামেন্টের শুরুতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হারের নিজেদেরই রেকর্ড আরও এক ধাপ বাড়াল নোয়াখালী।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে  টস জিতে  সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা সাবধানী হলেও মন্দ হয়নি নোয়াখালীর। ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকার দেখে-শুনে খেলতে থাকেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪১ রান তোলে দলটি।তবে পাওয়ারপ্লে পেরোনোর পর ছন্দ হারায় নোয়াখালী।
২৮ বলে ৩০ রান করা দিপু আউট হলে ভাঙে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। তিন নম্বরে নেমে মাজ সাদাকাত ব্যর্থ হন, ১৩ বলে মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।এক প্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন সৌম্য সরকার। তার সঙ্গে যোগ দেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী।
দুজনের জুটিতে আবার গতি পায় ইনিংস। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন সৌম্য, তবে বড় ইনিংস আর করা হয়নি তার। ৪৩ বলে ৫৯ রান করে দলের ১২৩ রানে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার।শেষ দিকে ঝড় তোলার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ নবী। একাধিক বাউন্ডারিতে রান তোলার গতি বাড়ান তিনি।
তবে ইনিংসের শেষের আগের ওভারে আউট হয়ে যান নবী। ২৬ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫১ রান। শেষদিকে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৫ বলে ১০ রানের ক্যামিও খেলেন।রাজশাহীর পক্ষে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিপন মণ্ডল, নেন ২টি উইকেট। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত, বিনুরা ফার্নান্দো ও রায়ান বার্ল একটি করে উইকেট শিকার করেন।
 

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সও পায় ভালো সূচনা। তানজিদ হাসান তামিম ও মোহাম্মদ ওয়াসিম উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪৭ রান। ২০ বলে ২১ রান করে তানজিদ আউট হলেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ওয়াসিম।

তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থ হন। এরপর মুশফিকুর রহিম এসে ওয়াসিমের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নেন। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ওয়াসিম তুলে নেন ফিফটি। ৩৫ বলে ৬০ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন এই ওপেনার, তখন দলের স্কোর ১০৫।

ওয়াসিমের বিদায়ের পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। মুশফিক ২২ বলে ১৯ রান করে আউট হন। এরপর ইয়াসির আলী চৌধুরী ও এস এম মেহেরব হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে উত্তেজনা বাড়ে ম্যাচে।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন রায়ান বার্ল। হিসেবি ও কার্যকরী ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬ বল হাতে ও ৪ উইকেট অবশিষ্ট রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ১৮ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন বার্ল।

নোয়াখালীর হয়ে বোলিংয়ে লড়াই করেছেন মেহেদী হাসান রানা, নিয়েছেন ৩টি উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ নবী ও হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট পান।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আত্মবিশ্বাসে ভর করে সামনে এগোলেও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য হতাশার অধ্যায় আরও দীর্ঘ হলো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.