মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিপরীতে ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের ভূখণ্ড বা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার ফলাফল হবে অত্যন্ত দ্রুত, নিখুঁত এবং ধ্বংসাত্মক। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।  

মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সম্প্রতি তেহরানের ওপর হামলার যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশের পরিণতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালোভাবেই অবগত আছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই শীর্ষ কমান্ডারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মেজর জেনারেল আবদোল্লাহি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং এটি অত্যন্ত বাস্তব, সক্রিয় এবং অটল। যদি ইরানি জাতির নিরাপত্তা বা স্বার্থ বিঘ্নিত হয়, তবে প্রথম ধাপেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি, প্রভাবকেন্দ্র এবং মার্কিন স্বার্থ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বৈধ ও সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘হিট অ্যান্ড রান’ বা হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার দিন এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। এখন যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান এমন ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া দেখাবে যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কল্পনাও করতে পারবে না।

ইরানের এই শীর্ষ জেনারেল আরও উল্লেখ করেন, তাঁদের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি মূলত জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন, জাতীয় দৃঢ়তা এবং দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই শক্তি এর আগে বহুবার মাঠ পর্যায়ে প্রমাণিত হয়েছে এবং শত্রুর কৌশলগত সব পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান ঐতিহাসিকভাবে কখনোই কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং ভবিষ্যতেও যুদ্ধ বাধানোর কোনো অভিপ্রায় তাঁদের নেই। তবে আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষার তাগিদে কঠোরতম প্রতিশোধ নিতে তাঁরা এক মুহূর্তও দ্বিধা করবেন না।

বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জেনারেল আবদোল্লাহি তাঁর বক্তব্যে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের সামরিক শক্তিকে অবমূল্যায়ন করা হবে তাদের জন্য এক বিশাল ঐতিহাসিক ভুল।

বর্তমানে তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান স্নায়ুযুদ্ধেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

Leave A Reply

Your email address will not be published.