ইরানে প্যারাস্যুট নিয়ে নামবে ২ হাজার মার্কিন সেনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযান পরিকল্পনা করছে, যার অংশ হিসেবে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ প্যারাট্রুপার যুদ্ধে অংশ নিতে প্যারাস্যুটে নামতে পারে।এই বাহিনী মূলত আক্রমণকারী ইউনিটের অগ্রভাগ হিসেবে কাজ করবে এবং বিমানঘাঁটি, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখলে সক্ষম।

ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় আরও ১০,০০০ স্থলসেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট সব ধরনের সামরিক বিকল্পকে সক্রিয়ভাবে মূল্যায়ন করছেন। এছাড়া ৫,০০০ মার্কিন মেরিন নিয়ে গঠিত দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ দলও সেই অঞ্চলে মোতায়েন হচ্ছে।

ইরানের হরমুজ প্রণালী বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে, যা বৈশ্বিক তেলের সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেশম দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা জোরদার রয়েছে, যেখানে আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও দ্রুতগতির নৌযান অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র ৮২তম এয়ারবর্নকে এই হুমকি মোকাবিলার জন্য ব্যবহার করতে পারে, যাতে প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমানো যায়।

একই সঙ্গে খারগ দ্বীপও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। প্রথম ধাপে ৮২তম এয়ারবর্ন প্যারাস্যুটে নেমে বিমানঘাঁটি দখল করতে পারে এবং পরবর্তী বাহিনীর জন্য অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে মেরিন বাহিনীকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দ্বীপে পৌঁছাতে হবে, যা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকবে।পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ হলো ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থাপনা দখল। সাবেক ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা কর্নেল ফিল ইনগ্রাম বলেছেন, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং মানবপতনের ঝুঁকি অনেক। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ইউরেনিয়াম মাটির নিচে থাকায় এটি উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব এবং স্থলবাহিনী পাঠানো হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।-সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Leave A Reply

Your email address will not be published.