জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকার বিভিন্ন সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ।

আজ বুধবার ( ১৫ এপ্রিল) সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

রুমিন ফারহানা অনুপস্থিত থাকায়, প্রশ্নটি উত্থাপন করেন অপর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫)।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ও অভিযোজন কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ‘লোকালি লেড অ্যাডাপ্টেশন ফ্রেমওয়ার্ক (এলএলএএফ)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু আরও জানান, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) এবং নির্গমন হ্রাস কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) প্রস্তুত করা হয়েছে। এ সব পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া টেকসই ও নিম্ন-কার্বন উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দিতে পরিবেশ অধিদপ্তর দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নির্গমন উন্নয়ন কৌশল (এলটি-লেডস) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানো, প্রকল্প উন্নয়ন সক্ষমতা জোরদার এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি)’ গঠন করেছে।

কার্বন বাজার উদ্যোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায়, একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্বন বাজারে স্বচ্ছ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্যের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে তিনি জানান, ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে, বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে— সরকারি বনাঞ্চলে বন পুনরুদ্ধার, উপকূলীয় চর এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন, সড়ক-মহাসড়ক, বাঁধ, নদী ও খালপাড়সহ বিভিন্ন অনাবাদি জমিতে ১ কোটি ৫০ লাখ গাছের চারা রোপণ।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) ২০০৯ বাস্তবায়নে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (সিসিটিএফ)’ গঠন করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি প্রসারে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এই তহবিলে মোট ৪ হাজার ১৫১ দশমিক ৭১ কোটি টাকা (প্রায় ৪৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯৮৫টি প্রকল্পের জন্য মোট ৪ হাজার ৩৮৩ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯২৪টি সরকারি ও ৬১টি বেসরকারি প্রকল্প। এর মধ্যে ৮২৮টি প্রকল্প (৭৭১টি সরকারি ও ৫৭টি বেসরকারি) ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৫৩টি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অনুমোদিত সব প্রকল্প জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে সারা দেশে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা যায়।

পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এক দিনে দূর করা সম্ভব নয় এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রচেষ্টা ধারাবাহিক ও পরিকল্পিতভাবে চলমান থাকবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া। তাই এর সমাধানও দীর্ঘমেয়াদি ও অব্যাহত উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব। জলবায়ুর ধরণ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকার নতুন নতুন পরিকল্পনা ও কৌশল গ্রহণ করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমাতে সরকারের অভিযোজন ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.