গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য ও বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি পালন করবে, কথা বলবে-বলুক, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ফ্যাসিবাদের যদি পুনরাবৃত্তি ঘটে, গণতন্ত্র তো যাবেই, রাষ্ট্রও থাকবে না। আগামীতে পাঁচ বছর পর যে-ই ক্ষমতায় আসুক, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে।’

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও বক্তব্যে যতই মতপার্থক্য থাকুক না কেন, একটি জায়গায় যোগসূত্র রেখে কাজ করতে হবে। তা না হলে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে। সম্প্রতি দুটি লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার আমলে এ ধরনের পরিস্থিতি ছিল ‘অবিশ্বাস্য’। সে সময় বিরোধী দলের রোডমার্চ ও লংমার্চে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হতো এবং সাধারণ মানুষও হামলার শিকার হতেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে গণতন্ত্রের অর্থ যা ইচ্ছা তা বলা নয়। রাজনৈতিক বক্তব্যে রেটোরিক থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।

‘তীব্র সমালোচনায়ও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করা যায়’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিএনপি অতীতে যেসব ভাষায় আক্রমণের শিকার হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি তারা করতে চায় না। নিজেদের বক্তব্যে মার্জিত কিন্তু কঠোর ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, অতীতে অনেক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ক্ষমতাসীনদের সমর্থন করলেও রুহুল আমিন গাজীর মতো ব্যক্তিদের দিয়ে ফ্যাসিবাদের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেওয়ানো সম্ভব হয়নি। ইতিহাসে হিটলার ও মুসোলিনির শাসনামলেও অনেক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী তাদের সমর্থন করেছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ ধরনের শাসন টেকেনি।

রুহুল আমিন গাজী একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাজী গণতন্ত্র ও ইসলামকে পছন্দ করতেন এবং আওয়ামী লীগের কথিত দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতেন। এ কারণে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। রুহুল আমিন গাজী ছিলেন ‘সত্যভাষণের এক অনন্য প্রতিনিধি’।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও রুহুল আমিন গাজীকে চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যে ধরনের বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে, তা তাদের ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে জীবদ্দশায় শেখ হাসিনার পতন দেখার সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য একটি সান্ত্বনার বিষয় ছিল বলে মনেকরি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।

Leave A Reply

Your email address will not be published.