দুই পক্ষই ইরান ও চীনের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আগ্রহের কথা জানায়।
আলোচনায় আরাগচি ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিতে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
ওয়াং ই বলেন, চীন সবসময়ই ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং সন্ত্রাসবাদ ও বাইরের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে এসেছে। তিনি জানান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের ন্যায্য অবস্থানের পক্ষে চীন আগামীতেও কথা বলবে।
আলোচনায় আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপমূলক নীতির তীব্র সমালোচনা করে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওয়াং ই এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকে এমন যুগে ফিরে যাওয়া উচিত নয়, যেখানে শক্তি প্রদর্শন মানেই বলপ্রয়োগ। রাষ্ট্রগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং অন্যের অধিকার সম্মান করতে হবে।’
তিনি সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রসমতার ভিত্তিতে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে সংশ্লিষ্ট আরেকটি ঘটনায় আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গেও ইরান ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ থেকে, তবে পরে ইসরায়েলের শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মাধ্যমে তা উসকে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিন্দার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য ও সচেতনতার ওপর ভর করে ইরান যে কোনো বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।
সূত্র: প্রেস টিভি